রামায়ন খ্যাত পক্ষীর আকস্মীক অবলুপ্তি

মোট তিনটি শকুন প্রজাতি প্রায় ৯৭% থেকে ৯৯.৯% কমে গেছে ১৯৯২-২০০৭ সালের মধ্যে।

কিছুদিন আগে পর্যন্ত যেকোনো রাস্তার পাশের গাছে, পোলে ,বাড়ির ছাদে এবং আরও অনেক জাইগায় এই লম্বা গলা অয়ালা পাখিটিকে খুব সহজ ভাবেই দেখা যেত যারা

লম্বা পাখা মেলে আকাশে প্রান খুলে ঘুড়ে বেড়াত। তাদের সংখ্যা এতটাই ছিল যে তা গুনে শেষ করা যেতনা। একটি সমীক্ষায় জানা যায় য়ে মোট ১৮টি সংরক্ষিত স্থানে মত ৪০মিলিয়ন এর মত শকুন রয়েছে। কিন্তু এই এক দশক ধরে সেই সংখ্যার এক উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। ১৯৯২ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যেই তা ৯৯% অবলুপ্তি হয়ে গেছে।

‘যেকোন পাখির প্রজাতির জন্য এটাই সব থেকে দ্রুত হার অবলুপ্তির’ জানিয়েছেন- অসদ রহমানি বম্বে ন্যাচুরাল হিস্টরি সোসাইটির প্রাক্তন সভাপতি। এই অবলুপ্তির হার ‘প্যাশেজ্ঞার পায়রা’র প্রাজাতির থেকেত্ত দ্রুত যেটি একসময় পৃথিবীর সবথেকে কমন পায়রা প্রজাতি হিসেবে খ্যাত ছিল সেটিত্ত ১৯৯০ সালের পর থেকে ক্যাপ্টিভিটি ছাড়া আর পাওয়া যায় না। যার শেষ নিদর্শন ছিল ‘মার্থা’ নামক পায়রাটি সেটিত্ত ১৯১৪ সালে ক্যাপ্টিভিটিতেই মারা যায়।

এই দ্রুত অবলুপ্তির কারণ বার করা খুব সহজ নয়। এর কারণ একাধিক হতে পারে যেমন চোরাশিকারী, আবহাওয়া, বাসস্থানের অভাব কিন্তু কোন কারণ-ই এই মারাত্মক হ্রাসের কারণকে ব্যাখ্যা করতে পারে না। কিছু কিছু গ্রামীন জনশ্রুটি-তে বলা হয়েছে যে ‘আমেরিকানরা সব শকুন নিয়ে গেছে’-অথবা এই বিপত্তির পিছনে ‘বিদেশী শক্তি’ রয়েছে। কিন্তু একদল বিজ্ঞানীরা পাকিস্তানের কিছু প্রজাতির ওপর পরিক্ষা নিরীক্ষা করে মনে করেছেন যে একটি বিশেষ ধরণের ওষুধের প্রতিকৃয়া পচরছে এই পাখির প্রজাতিরটির ওপর।

আমরা কোন দিনই এই প্রজাতিরটির পাখিটিকে খুব একটা ভালো চোখে দেখিনি কিন্তু এই পাখি সমাজের আবর্জনা খেয়ে আমাদের বিভিন্ন রোগব্যাধির হাত থেকে রক্ষা করে চলেছিলেন। কুকুর-বিড়াল অথবা ইদুঁরের মৃত্যুর পর সেই পচনশীল দেখে পরিষ্কার করেদিত শকুন। অদের উচ্চ পাচন প্রক্রিয়াতে বিভিন্ন ধরণের রোগ বহনকারি জিবানু ধংস হত। কিন্তু এখন সেই প্রকৃয়া প্রায় স্তব্ধ আর তাই জন্যই সমাজে এই পচনশীল দেহ বাহিত বিভিন্ন রোগ-ব্যাধির আশঙ্কা দিনে দিনে বেরে চলেছ।

শকুনে অবলুপ্তির পাশাপাশি পরিক্ষার ফল হিসাবে আবর্জনার  পরিমান বৃদ্ধিতে প্রায় ৫.৫ মিলিয়ন কুকুর-এর সংখ্যা বেড়েছে। যার ফল হিসেবে ৩৪.৫ মিলিয়ন কুকুর-এর কামোড়ের খবর বেড়েছে এবং ৪৭,৩০০ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে জলাতঙ্ক থেকে আর সেটা ঘটেছে ১৯৯২ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে।

যদিত্ত এই বিষয়টি নিয়ে ভারতে বিভিন্ন সংস্থা কাজ করেছে এবং বছরে প্রায় ৫% উন্নতির হার লক্ষ্য করা গেছে। এই হার যদি ধিরে ধিরে উন্নত না হয় তাহলে সমগ্র মানব জাতির সামনে এক সমূহ বিপদের হাতছানি থেকেই যাবে । । ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *