কেন প্রতিদিন মধু খাওয়ার পরামর্শ ডাক্তারদের?

    Why doctors advise to eat honey every day?
    মধু খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু এটা কারোরই অজানা নয়।তেমনি এটির পুষ্টিগুণ এর কোন বিকল্প আছে বলে মনে হয় না।ভাই আমরা প্রায় সকলেই কম বেশি মধু খেতে অভ্যস্ত।কিন্তু মধুর নানা পুষ্টিগুণ থাকা সত্ত্বেও আমাদের দৈনন্দিন জীবনের খাদ্যতালিকায় এর স্থান সেভাবে দেখা যায় না।আর সেই কারণেই দিনদিন ডায়াবেটিস, হার্টের রো্ উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল এর মত রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
    সত্যি কথা বলতে ভিটামিন মিনারেল এবং নানান উপকারী উপাদান এ ভরা এই মধু যদি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের খাবার তালিকায় একটি জায়গা করে নিতে পারে তাহলে অনেকেই ছোট বড় রোগের প্রকোপ থেকে আমরা মুক্তি পাব।যেমন…
    ১.দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি।
    বর্তমানে আমাদের এই প্রচন্ড কর্ম ব্যস্ততার দরুন প্রতিদিন নিয়মিত ও পরিমাপ মত খাদ্য আমরা খেতে পারি না।যার ফলস্বরূপ আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে।ফাকির ফলে শরীরে নানা রকম রোগ বাসা বাঁধে।তাই আমাদের শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেম সব সময় ঠিক রাখতে হবে।এবং এই কাজটি করা যায় খুব সহজেই,যদি আমরা রোজ গরম জলের সাথে মধু খাওয়ার অভ্যাস করি।মধুতে উপস্থিত অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল শরীরের ভিতরে খারাপ ব্যাকটেরিয়া কে নষ্ট করে দেয়।এর ফলে আমাদের রোগে ভোগান্তি অনেকটাই কম হয়।
    ২.আর্থারাইটিস এর প্রকোপ থেকে মুক্তি।
    প্রতিদিন গরম জলের সাথে পরিমাণমতো মধু ও দারচিনির পেস্ট মিশিয়ে খেলে শরীরে জয়েন্টের ব্যথা কমতে থাকে এবং হাড় ও অনেক শক্ত হয়।
    ৩.রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখে।
    রোজ মধুর সঙ্গে দারচিনি খেলে এটি শরীরে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় এবং এর ফলে শরীরের শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে টাইপ টু ডায়াবেটিসের আশঙ্কা অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
    ৪.নিয়ন্ত্রণে থাকে ওজন।
    অতিরিক্ত ওজন, আর চিন্তা নেই।নিয়মিত শুরু করুন মধু খাওয়া।এর মধ্যে থাকা বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান শরীরে হজম ক্ষমতা এতটাই বাড়িয়ে দেয় যে কোন রকম মেদ জমতে দেয়না।এবং একই সাথে শরীরে গ্যাস অম্বল ও বদহজম এর মত সমস্যা দূর করে।এক্ষেত্রে আপনাকে প্রতিদিন সকালে গরম জলের সাথে পরিমাণমতো মধু ও লেবু মিশিয়ে খেতে হবে।এবং বেশ কিছুদিন এই পানীয় খেলে ফল চোখে পড়ার মতো।
    ৫.শরীরে বিষ মুক্তিতে সহায়তা
    খাবারের সঙ্গে আরও নানান ভাবে বিভিন্ন ক্ষতিকারক উপাদান আমাদের শরীরে রক্তের সঙ্গে প্রতিনিয়ত মিশে চলেছে।এবং এই ক্ষতিকারক উপাদান গুলি আমাদের শরীর থেকে বের না করা যায় তাহলে বিপদ আসন্ন।এবং এই কাজটি করতে আমাদের দারুন ভাবে সাহায্য করে জল ও মধু।এই পানীয় খেলে আমাদের প্রসাবের হার তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়।এবং আমাদের শরীরে প্রস্রাবের সঙ্গে সমস্ত টক্সিক জাতীয় উপাদান বার করে দেয়।এর ফলে নানান রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

        ৬.দাঁতের উন্নতি ঘটতে সাহায্য করে।
        অল্প পরিমাণ দারচিনি মধুর সাথে খেলে এর মধ্যে থাকা পুষ্টিকর উপাদান শরীরে প্রবেশ করে দাঁতকে শক্তপোক্ত করে এবং মুখে থাকা অনেক খারাপ ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে।এর ফলে মুখের গন্ধ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
        ৭.শরীরে এনার্জি বাড়ায়
        প্রতি চামচ মধুতে প্রায় 64 ক্যালরি থাকে।এই পরিমাণ ক্যালোরি শরীরে প্রবেশ করলে ওজন বাড়ার আশঙ্কা প্রায় থাকে না।কিন্তু এর ফল স্বরূপ শরীরের স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি চোখে পড়ার মতো।এবং এর দরুন অ্যাথলেটিক নিয়মিত মধু খেয়ে থাকে।
        ৮.ব্রণর প্রকোপ কমে।
        পরিমাণ মতো মধু নিয়ে মুখে লাগিয়ে ভালো করে ম্যাসেজ করে 30 মিনিট অপেক্ষা করে মুখটা ভালো করে ধুয়ে নিন।এইভাবে বেশ কিছুদিন ত্বকের পরিচর্যা করলে দেখবেন ব্রণের প্রকোপ অনেকটাই কমেছে এবং তার সাথে সাথে মুখের দাগ সার্কেল ও মিশে যাবে।আসলে মধুতে থাকা বিভিন্ন উপকারী উপাদান ত্বকের মধ্যে লুকিয়ে থাকা বিভিন্ন ক্ষতিকারক এলিমেন্টস দের বের করে দেয়।এই কারণেই ত্বক সুন্দর হয়ে ওঠে।
        ৯.গলার ব্যথা থেকে মুক্তি।
        হঠাৎ প্রচন্ড ঠান্ডা লাগা থেকে গলার ব্যথা চিন্তা নেই এক গ্লাস গরম জলের সাথে এক চামচ মধু ব্যাস ব্যাথা গায়েব।এর সঙ্গে সঙ্গে অনেক দিনের বসে থাকা সর্দি কাশি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
        [যদি প্রতিবেদনটি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে শেয়ার কমেন্ট ও লাইক করতে ভুলবেন না।]
Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *