‘ফেক’ ছবি শেয়ার করার অভিযোগে বাবুল সুপ্রিয়র বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র (Babul Supriyo) বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করল কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি টুইটারে একটি ‘ফেক’ (Fake) ছবি শেয়ার করেছেন। যে ছবিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kartik Banerjee) সঙ্গে পানাহার করতে দেখা গিয়েছে রাজ্যের মুখ্য সচিব রাজীব সিনহাকে। এক সিনিয়র আধিকারিক একথা জানিয়েছেন। ছবিতে ওই দু’জন ছাড়াও আরও কয়েকজনকে দেখা গিয়েছে। গত ৮ মে ওই ছবিটি শেয়ার করেছিলেন বাবুল। রবিবার তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছে কলকাতা পুলিশ। ওই আধিকারিক জানিয়েছেন, ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩এ, ৫০৫ ও ১২০বি এবং আরও কয়েকটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে বাবুল সুপ্রিয়র বিরুদ্ধে।

ওই আধিকারিক আরও জানাচ্ছেন, কেবল বাবুল নন, যাঁরা যাঁরা ওই ছবিটি শেয়ার করেছেন তাঁদের সকলেরই বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘ফেক পোস্ট/ ছবি শেয়ার করার শাস্তিযোগ্য অপরাধ।”

এর আগে দক্ষিণ কলকাতার ডেপুটি কমিশনার টুইট করে জানিয়েছিলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই ছবিটি আদতে ফেক। এবং পোস্টে যে মেসেজ শেয়ার করা হয়েছে তাও ভুয়ো। একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা প্রসঙ্গে বাবুল সুপ্রিয় টুইট করে জানান, তিনি যে ছবিটি শেয়ার করেছেন তা তার আগেই ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল। অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কটাক্ষ করে বলেন, রাজ্যের পুলিশ তৃণমূল কংগ্রেসেরই সম্প্রসারিত শাখায় পরিণত হয়ে উঠেছে।

বাবুল তাঁর টুইটে লিখেছেন, ‘‘বেশ, আমি অবশ্যই একটা প্রশ্ন তুলতে চাই যা লক্ষ লক্ষ মানুষও জানতে চান। আমি ছবিটি প্রকাশ করিনি। এটা ততক্ষণে ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল। সকলেই জানেন পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ তৃণমূল কংগ্রেসেরই সম্প্রসারিত শাখা হয়ে উঠেছে।”

আর একটি টুইটে তিনি লেখেন, ‘‘আইনি অগ্রগতির জন্য দয়া করে শ্রী কার্তিক ব্যানার্জির সঙ্গে আলোচনা করুন এবং তাঁর আদেশ মেনে চলুন— যা আপনারা করেই থাকেন। আপনারা কি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের কথা শুনেছেন যেখানে সমস্ত সম্পত্তি করায়ত্ত করেছেন তৃণমূল নেতারা। স্থানীয়রা একে ব্যানার্জি পাড়া বলে। আপনা নিশ্চয়ই এসব জানেন।”

পরে কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় এক বিবৃতিতে বাবুল সুপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টটির কড়া নিন্দা করেন এবং জানিয়ে দেন, তিনি আইনি পদক্ষেপ করবেন। তিনি অভিযোগ করেন, সঙ্কটের সময় এই ধরনের ফেক পোস্ট করে মানুষকে বিভ্রান্ত করাটা সামাজিক অপরাধ।

প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের পর থেকে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের সংঘাত বারবার প্রকাশ্যে এসেছে। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, রাজ্য সরকার প্রকৃত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা চেপে দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: জানালা থেকে লাফ মেরে আত্মহত্যা করছেন রুশ ডাক্তাররা, ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য

[যদি প্রতিবেদনটি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে শেয়ার কমেন্ট ও লাইক করতে ভুলবেন না।]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *