রেশনের পরিমাণ জানতে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করল রাজ্য সরকার

রেশন নিয়ে সাধারণ মানুষের বিভ্রান্তি কাটাতে নয়া ব্যবস্থা গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। বর্তমান করোনা আবহে রাজ্যের মানুষের জন্য রেশন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছে নবান্ন। এবার রেশন কার্ড অনুযায়ী গ্রাহকরা মাসিক কত পরিমাণ এবং কী কী খাদ্য সামগ্রী রেশন থেকে পাবেন, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করল খাদ্য দফতর। 

অর্থাৎ আর্থিক সামর্থ অনুযায়ী বিলি হওয়া কার্ডের মাধ্যমে বরাদ্দ রেশনের সামগ্রিক চিত্র এই পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলা ও ইংরেজিতে এই ধরনের ১৯টি স্লাইড তৈরি করেছে রাজ্যের খাদ্য দফতর। রাজ্যজুড়ে তা ব্যাপক ভাবে প্রচার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খাদ্য দফতর সূত্রের দাবি, রেশন নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় নানা অভিযোগ উঠেছে। বহু ক্ষেত্রেই অভিযোগ  পাওয়ার পরে ব্যবস্থা নিয়েছে দফতর। তারপরেই সাধারণ মানুষকে তাদের রেশন সংক্রান্ত নিজস্ব অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতেই এই ধরণের উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও এই প্রচার চালানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। খাদ্য দফতরের ট্যুইটার ও ফেসবুক পেজ থেকে চলছে প্রচার। অন্যদিকে খাদ্য দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে , রাজ্যবাসীর চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত রেশন তাদের কাছে মজুত রয়েছে। কিন্তু বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে কিছু অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সেই অভিযোগ তাদের কাছে এসেছে এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেবে রাজ্য। খাদ্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, কেউ চাইলে মাসের শেষ দিকে গিয়ে নিজের রেশন একবারে তুলতে পারবেন। ফলে মাসের প্রথমে ধাক্কাধাক্কি করার প্রয়োজন নেই। 

সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখেই যাতে রেশন বিলি করা যায় সেই বিষয়ে খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, গণবন্টন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী করতে খাদ্য দফতর একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা নিয়েছে। রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানিয়েছেন, “স্পেশাল কুপন হোক বা ডিজিটাল রেশন কার্ডের গ্রাহক। প্রত্যেকের জন্যে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। বিভিন্ন গোডাউন থেকে যথাসময়ে খাদ্য সামগ্রী প্রত্যেক জায়গায় পৌছেও যাচ্ছে। কোথাও কোনও ধরণের অসুবিধা নেই।

অন্যদিকে প্রতিদিনই জেলা ওয়াড়ি রেশন নিয়ে রিপোর্ট তৈরি করছে খাদ্য দফতর। সেখানে বিভিন্ন জেলার সমস্ত রেশন তথ্য থাকছে। এমনকী, কত জন রেশন ডিলার কারচুপি করছেন, কত জনকে শো-কজ বা সাসপেন্ড করা হয়েছে সেটাও রিপোর্টে উল্লেখ থাকছে। তবে দফতরের আধিকারিকদের কথায়, এখন কড়া হাতে সবটাই নজর দেওয়ার কারণে অভিযোগ আসা অনেকটাই কমে গিয়েছে। রেশন ব্যবস্থা নিয়ে খুশি রেশন ডিলার অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের বক্তব্য,  সরকার আলাদা করে সমস্ত তথ্য বা গ্রাহকদের প্রাপ্য স্লাইডের মাধ্যমে দেখানোয় প্রত্যেকেই বুঝে যাচ্ছেন। ফলে সমস্যা অনেকটাই কমেছে। 

আরও পড়ুন:একশো দিনের কাজের ‘অডিট’ করতে রাজ্যে আসছে দিল্লির দল

[যদি প্রতিবেদনটি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে শেয়ার কমেন্ট ও লাইক করতে ভুলবেন না।]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *